অবশেষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির শপথ অনুষ্ঠান আয়োজিত হলো। যদিও বির্তকের শেষ হলো না।

রোববারের শপথ অনুষ্ঠানে মিশা সওদাগরের সরব উপস্থিতি দেখা গেল পাওয়া যায়নি তার প্যানেল থেকে নির্বাচিত সদস্যদের।

সহসভাপতি পদে জয়ী খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও চিত্রনায়ক মাসুম পারভেজ রুবেল, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য অভিনেতা আলীরাজ, চিত্রনায়িকা রোজিনা ও মৌসুমী শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।

অবশ্য রোজিনা ও আলীরাজ আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তারা শপথ অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না।

রোববার সন্ধ্যায় এফডিসিতে শপথ অনুষ্ঠান হয়। ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণদের শপথ পাঠ করান গত মেয়াদের কমিটির সভাপতি মিশা সওদাগর।

এর আগে দুপুরে রোজিনা সাংবাদিকদের জানান, ব্যক্তিগত ব্যস্ততার জন্য শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না তিনি। বিষয়টি সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনকে রাতেই জানিয়ে দিয়েছেন।

কারণ উল্লেখ না করে আলীরাজও সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনিও শপথ অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না।

শপথ না নিলে কমিটিতে থাকবেন কি না প্রশ্নে রোজিনা বলেন, আমি কমিটিতে থাকি কিংবা না থাকি-এটা কোনো ব্যাপার না। আমি চলচ্চিত্রের মানুষ। চলচ্চিত্রের বিষয়ে আমি কাজ করব। কমিটির বাইরে থাকলেও চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য আমি কাজ করে যাব। যদি কখনও কেউ ডাকে, যদি আমি অবসর থাকি কাজ করব।

আলীরাজ বলেন, শিল্পী সমিতির যখন সমঝোতার মাধ্যমে সবকিছু সুন্দরভাবে হবে, সুন্দরের মধ্যে আমি অবশ্যই থাকব।

ডিপজল, রুবেল ও মৌসুমীর শপথ গ্রহণ না করার বিষয়ে জানা গেছে, নির্বাচনে তারা মিশা-জায়েদের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন শেষে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করার কারণে শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন তার প্যানেলের বিজয়ীরা। বয়কটের তালিকায় রয়েছেন ডিপজল, রুবেল ও মৌসুমী।

এফডিসিপাড়ার গুঞ্জন, নিজ প্যানেলের বিজয়ী প্রার্থীদের নিয়ে আলাদা শপথের আয়োজন করবেন জায়েদ খান। সেখানে দেখা যেতে পারে এ তিন তারকাকে।

তবে রোববার শপথগ্রহণ না করার বিষয়ে ডিপজল, রুবেল ও মৌসুমীর কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ভোটের পর প্রকাশিত ফলে চিত্রনায়িকা নিপুণকে ১৩ ভোটে হারিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হন জায়েদ খান। তবে সে ফল না মেনে জায়েদের বিরুদ্ধে ভোট কেনাসহ অনিয়মের অভিযোগ তোলেন নিপুণ।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেন। এর তদন্ত শেষে গত শনিবার জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিপুণকে জয়ী ঘোষণা করে আপিল বোর্ড।

যদিও আপিল বোর্ডের কার্যকারিতা আর নেই দাবি করে এই সিদ্ধান্ত মানছেন না জায়েদ খান। আইনিব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন পর পর দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা এ নায়ক।

এদিকে জায়েদ খান না মেনে নিলেও নিপুণের জয়কে স্বীকার করে নিয়েছেন তার প্যানেলের সভাপতি পদে লড়াই করা মিশা সওদাগর।

 

কলমকথা/সাথী